‘নিষিদ্ধ’ রাশিয়াকে ফুটবলে ফেরাতে চান ফিফা সভাপতি, ক্ষুব্ধ ইউক্রেন
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ জড়ায় রাশিয়া। এরপর থেকেই আগ্রাসনের দায়ে দেশটির সব ধরনের ফুটবলকে নিষিদ্ধ করে ফিফা ও উয়েফা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর এবার রাশিয়ার ওপর নমনীয় হচ্ছে ফিফাও। ফলে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আগ্রহী ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে তার মন্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও ‘শিশুসুলভ’ বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ইউক্রেনের ক্রীড়ামন্ত্রী।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিফা সভাপতি অন্তত বয়সভিত্তিক পর্যায়ে রাশিয়ার ফুটবলকে অনুমতি দেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘এখান (রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত) থেকে কিছুই অর্জিত হয়নি, বরং হতাশা ও পারস্পরিক ঘৃণা বাড়িয়েছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশে রাশিয়ার ছেলে-মেয়েরা ফুটবল খেলতে পারলে হয়তো তাদের সহায়তা হতো। ফিফার কখনোই কোনো দেশকে তাদের রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকাণ্ডের কারণে ফুটবল খেলা থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়।’
তার ওই মন্তব্য কিছুতেই মানতে রাজি নন ইউক্রেনের ক্রীড়ামন্ত্রী মাতভি বিদনি, ‘জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন, শিশুসুলভ কথা বলতে পারেন না। যেখানে শিশুরা মারা যাচ্ছে সেখানে তারা ফুটবলকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করছে। আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিই– যখন থেকে রাশিয়া পুরোদমে আগ্রাসন শুরু করে, তার পর থেকে ৬৫০ ইউক্রেনীয় অ্যাথলেট-কোচকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০০ জনেরও অধিক ফুটবলার।’
তিনি বলেন, ‘উদাহরণস্বরূপ ইলিয়া পেরেজোগিন, ১০ম গ্রেডের মারিওপোল স্কুলে পড়ত, স্কুলের স্টেডিয়ামে খেলার সময়ই তার ওপর রাশিয়ান মিসাইল আঘাত করে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কিয়েভে মা–সহ সাবেক ফুটবল খেলোয়াড় ভিক্টোরিয়া কোতলিয়ারোভা মারা যান শেলের আঘাতে। যুদ্ধ কোনো রাজনীতি নয়, সুস্পষ্ট অপরাধ। রাশিয়াই খেলাকে রাজনীতিকরণ করে আগ্রাসনকে বৈধতা দিচ্ছে। আমি ইউক্রেন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অবস্থান জানাই– যা রাশিয়ার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফেরার বিরোধী। যতদিন খেলার রাজনীতিকরণ করে হত্যাযজ্ঞ চলবে, ততদিন তাদের পতাকা কিংবা জাতীয় প্রতীকের প্রদর্শন মানে ন্যায়বিচার, সততা ও নিরপেক্ষতার অবমূল্যায়ন।’
এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে উয়েফার সভাপতি আলেকজান্ডার শেফরিন বলেছিলেন, রাশিয়াকে পুনর্বহাল করতে হলে ইউক্রেনে যুদ্ধ থামাতে হবে। ২০২২ সালে ফিফা ও উয়েফার নিষেধাজ্ঞার কারণে পুরুষ দল ওই বছরের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং নারী দল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বাদ পড়ে। একইভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপেও রাশিয়ানদের খেলা হবে না। মাঝে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) আপিল করলেও তারা সফল হয়নি।

