নির্বাচনে সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে শতভাগ নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের অনৈতিক বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ না করার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকালে কারও কাছ থেকে খাবারও গ্রহণ না করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি৷
উপদেষ্টা বলেন, আপনারা জানেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য এবং উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। জাতীয় নির্বাচনে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও নিশ্চিতকরণে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা আমাদের নিকট সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আর এই লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হয়েছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা সবাই মিলে জাতিকে একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে চাই, যা বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে রোল মডেল হয়ে থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মানবিক মূল্যবোধ, সততা, নৈতিকতা, দক্ষতা, বিচক্ষণতা, পেশাদারিত্ব ও সেবাধর্মী মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। দেশপ্রেমের মহান ব্রত নিয়ে জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে শতভাগ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কর্মকর্তারা যেন কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে কোনো প্রকার অনৈতিক বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ না করেন। এমনকি দায়িত্ব পালনকালে তাদের কোনো প্রতিনিধির কাছ থেকে কোনো খাবারও গ্রহণ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রকার অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারের পরামর্শ মোতাবেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তা শক্ত হাতে দমন করতে হবে।
ভোট দেওয়ার বুথসহ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে স্বচ্ছ ও নির্বাচনের পরিবেশ উপযোগী করে প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার মূল রাস্তা মসৃণ ও যাতায়াত উপযোগী করা, ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী সামগ্রী যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

