নিজেকে নিয়ে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে মুখ খুললেন চিটাগংয়ের হোস্ট ইয়াশা
কদিন আগেই শেষ হয়েছে বিপিএলের একাদশ আসরের খেলা। ফাইনালে চিটাগং কিংসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ফরচুন বরিশাল। এবারের আসরে অন্যতম আলোচিত নাম ছিলেন ইয়াশা সাগর। চিটাগং কিংসের অফিসিয়াল উপস্থাপক ছিলেন কানাডিয়ান এই মডেল।
বিপিএলের এগারতম আসরে নতুন মাত্রা যোগ দিতে কানাডিয়ান হোস্ট ইয়াশা সাগরকে উপাস্থপক হিসেবে দলে নিয়ে আসে চিটাগং। আসরজুড়ে কানাডিয়ান এই হোস্টকে নিয়ে ছিল বাড়তি উন্মাদনা। তবে টুর্নামেন্টের শেষদিকে ওঠে বেশ কিছু অভিযোগ।
চুক্তির মেয়াদ ওবং শর্তাবলী পূরণ না করেই ইয়াশা চলে যান বলে জানানো হয়েছিল। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও ইয়াশাকে নিয়ে প্রশ্ন এসেছিল। সেখানে তাকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দলের ম্যানেজার বলেছেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী ৫০%+ পেমেন্ট উনাকে (ইয়াশাকে) দেওয়া হয়েছে। শেষ সপ্তাহে বাকিটা দেওয়ার কথা ছিল। উনি আমাদের সাথে যে চুক্তি ছিল সেটা উনি ফুলফিল করেনি। বাকিটা পরে জানিয়ে দিব। আমাদের এন্ড থেকে সব ঠিকঠাক ছিল।’
জানা যায়, চুক্তির শর্ত না মানার অভিযোগে তাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে চিটাগং কিংস। এই আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১০ ডিসেম্বর এই কানাডিয়ান মডেলের সঙ্গে তার মক্কেল চিটাগাং কিংসের চুক্তি হয়েছিল, যাতে বিভিন্ন শর্ত অন্তর্ভূক্ত ছিল। চলমান বিপিএলে উপস্থাপনার পাশাপাশি সেই শর্তগুলো মানতে বাধ্য ছিলেন ইয়াশা। কিন্তু চুক্তির ৯ ধারাটি লঙ্ঘন করেছেন এই মডেলকন্যা। সেই ধারা অনুযায়ী, স্পন্সরশিপ বার্তা, বিজ্ঞাপন এবং বাণিজ্যিক অংশীদারদের সম্প্রচারের উল্লখ ছিল।
এই আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, ইয়াশা এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ সত্ত্বেও স্পন্সর ডিনারে উপস্থিত হননি এবং প্রযোজ্য স্পন্সর শুট ও প্রোমোশনাল শুটআউট সম্পন্ন করেননি, যা চিটাগং কিংসের আর্থিক ও সুনাম ক্ষতির কারণ হয়েছে।
এদিকে নিজেকে নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের জবাব আজ দিয়েছেন কানাডিয়ান এই মডেলে। ফেসবুকে নিজের বিপিএল ফ্যানদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমাকে নিয়ে বেশ কিছু গুঞ্জণ দেখতে পেয়েছি, তাই আমি কিছু বিষয় পরিষ্কার করতে চাই। চিটাগং কিংস আমাকে সময়মতো পারিশ্রমিক দেয়নি, এখনো বাকি আছে কিছুটা। ফ্র্যাঞ্চাইজির একটি স্পন্সরের অ্যাডভারটাইজমেন্টেও আমাকে অংশ নিতে বলা হয়েছিল যা চুক্তিতে ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হয় ১৯ জানুয়ারি। আমাকে বারবার নিশ্চিত করা হলেও শেষ পর্যন্ত মেয়াদ আর বাড়েনি। দুই সপ্তাহ আমার পাস্পোর্ট নিয়ে রাখা হয়েছিল। বারবার আমাকে সাংঘর্ষিক কথাবার্তা বলা হয়েছে। অবশেষে আমি পাস্পোর্ট ফেরত পেলেও ভিসার মেয়াদ আর বাড়েনি।’
আইনি নোটিশ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে রাতে আমি পাসপোর্ট ফেরত তাঁর কয়েক ঘন্টা পরই আমি জানতে পারি আইনি নোটিশের কথা যা কোনোভাবেই ঠিক ছিল না এবং চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক ছিল। যা ঘটছিল এবং জানতাম যে বাংলাদেশে আমার থাকাটা আসলে ফ্র্যাঞ্চাইজির উপর নির্ভরশীল, তাই আমি সেখানে থাকা নিরাপদ বোধ করিনি, তাই আমি চলে আসি।’
এরপর বিপিএলে নিজের ফ্যানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গে তিনি দারুণ সময় কাটিয়েছেন বলেই বিবৃতিতে জানিয়েছেন। স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের কথা উল্লেখ করে আবার বাংলাদেশে ফেরার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।