তথ্যপ্রবাহের চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য : তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার। মানুষ যেমন তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার চায়, তেমনি ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সুরক্ষাও এখন একটি মৌলিক অধিকার।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি এনালগ সিস্টেম থেকে ডিজিটালে মানসিকভাবে রূপান্তরিত হতে পারেনি। ফলে বিদ্যমান ডিজিটাল সেবাগুলো মানুষ বিচ্ছিন্নভাবে ব্যবহার করছে, কিন্তু একটি সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের পূর্ণ সুবিধা এখনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না।সেজন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নীতিগত সংস্কার ছাড়া ডিজিটাল অগ্রগতি সম্ভব নয়। ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন নীতিগত, প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত সমন্বিত সংস্কার। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা থাকায় সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না। কখনো নীতিগত কাঠামোর ঘাটতি, কখনো প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, আবার কখনো উদ্যোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্রণোদনার অভাব এই অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এখনো ডিজিটাল সেবাগুলো খণ্ডিতভাবে ব্যবহার করছি। অথচ একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারলে এর সুফল বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব। ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং সব স্টেকহোল্ডার, সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, উদ্যোক্তা ও সেবা প্রদানকারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের যুক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, শুধু অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করলেই হবে না। মানুষকে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন থেকে সুরক্ষা দেওয়াও এখন অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বব্যাপী বড় বড় ঘটনার আগে পারসেপশন ম্যানেজমেন্টের একটি ধারা কাজ করে, যেখানে যোগাযোগব্যবস্থাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাই আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে জনবান্ধব নীতি, কার্যকর ট্যাক্স কাঠামো এবং আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ অপরিহার্য। এসব সংস্কার যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যাবে, তত দ্রুত সাধারণ মানুষ উন্নত সেবা পাবে এবং উদ্যোক্তারাও তাদের উদ্যোগকে লাভজনক করে তুলতে পারবেন।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবদুন নাসের খান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী এবং আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া।

