February 7, 2026
খেলাধুলা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: সহজ ম্যাচ হারতে হারতে জিতল পাকিস্তান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচেই দেখা গেলো রোমাঞ্চকর লড়াই। আইসিসির সহযোগী সদস্য নেদারল্যান্ডসের কাছে প্রায় হারের মুখে পড়েছিল পাকিস্তান, কিন্তু ফাহিম আশরাফের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে তারা। শনিবার কলম্বোর ঐতিহ্যবাহী সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা। নেদারল্যান্ডস নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৯.৫ ওভার খেলে ১৪৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। পাকিস্তানের বোলাররা, বিশেষ করে স্পিনার এবং পেসাররা দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ডাচদের বড় স্কোর গড়তে দেননি। সালমান মির্জা ৩টি উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার হন। ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ভালো হলেও মাঝপথে ধস নামে। এক পর্যায়ে ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। কিন্তু তখনই ঝড় তোলেন ফাহিম আশরাফ। মাত্র ১১ বলে অপরাজিত ২৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে কয়েকটি দুর্দান্ত ছক্কা ও চার, যার মধ্যে শেষের দিকে এক ওভারেই ২৪ রান নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। শেষ ৩ বল হাতে রেখে ১৯.৩ ওভারে ১৪৮ রান করে পাকিস্তান জয় নিশ্চিত করে। এর আগে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডস ভালো শুরু পায়। ওপেনার মাইকেল লেভিট ও ম্যাক্স ও’ডাউড আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। তবে চতুর্থ ওভারে সালমান মির্জার বলে উসমান খানের ক্যাচে ৫ রান করা ও’ডাউড আউট হলে প্রথম ধাক্কা খায় দলটি। পরের ওভারেই আরও বড় বিপদে পড়ে নেদারল্যান্ডস। মোহাম্মদ নেওয়াজের বলে ১৫ বলে ২৪ রান করা লেভিট আউট হন। এই উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাবর আজম, বাউন্ডারিতে দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে শাহীনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। এরপর বাস ডি লিডে ও কলিন অ্যাকারম্যান কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। পাওয়ারপ্লে শেষে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫০ রানের কাছাকাছি। তবে অষ্টম ওভারে আবরার আহমেদ অ্যাকারম্যানকে (১৪ বলে ২০) আউট করলে ভাঙে এই জুটি। তখন নেদারল্যান্ডসের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৬৫ রান। মাঝের ওভারগুলোতে অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস লড়াই চালিয়ে যান। ১৩তম ওভারে একটি ছক্কা মেরে দলকে ১০০ রানে পৌঁছে দেন তিনি। কিন্তু এরপরই আবার নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্তান। মোহাম্মদ নেওয়াজ ডি লিডেকে (২৫ বলে ৩০) আউট করেন এবং আবরার আহমেদ নিজের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে এডওয়ার্ডসকে (২৯ বলে ৩৭) ফেরান। পরের ওভারে সাইম আইয়ুব জোড়া আঘাত হানেন। প্রথমে লোগান ভ্যান বেককে শূন্য রানে আউট করেন, এরপর জ্যাক লায়ন–ক্যাশেটকে ফেরান ৯ রানে। এতে ৭ উইকেটে ১২৯ রানে নেমে যায় নেদারল্যান্ডস। শেষদিকে শাহীনের বলে ৪ রান করা রোলোফ ভ্যান ডার মার্ভে আউট হন। শেষ ওভারে সালমান মির্জা আরিয়ান দত্ত (১৩) ও পল ভ্যান মিকেরেনকে (০) আউট করে নেদারল্যান্ডসের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন সালমান মির্জা। তিনি ৩.৫ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট। এছাড়া মোহাম্মদ নেওয়াজ, আবরার আহমেদ ও সাইম আইয়ুব নেন দুটি করে উইকেট, আর শাহীন শাহ আফ্রিদি পান ১টি উইকেট।
শেয়ার করুন: