January 8, 2026
জাতীয়লেটেস্টশীর্ষ সংবাদ

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। গ্যাসের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে সবকিছু করা হবে বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান তিনি। উপদেষ্টা বলেন, যারা আশা করেছিলেন এলপিজির দাম বাড়বে, আপনার দেখছেন বিইআরসি ৫৩ টাকা বাড়িয়েছে। অনেকে এটার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এরপরে কেবিনেট সেক্রেটারিকে আমরা বলেছি যে, প্রত্যেক জেলায় জেলায় এগুলো নিয়ে যেন মোবাইল কোর্ট করা হয়। গতকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দামের এই অস্বাভাবিকতা, এটা একটা কারসাজির মাধ্যমে করা হয়েছে। সরকার এজন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এবং পুলিশের মাধ্যমে। খুচরা এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিলে কারসাজি করেছেন বলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান তিনি। উপদেষ্টা জানান, অস্বাভাবিকভাবে এলপিজির দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট করা হচ্ছে। যারা দোকান বন্ধ রেখেছেন সেগুলো খোলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, হ্যাঁ, সাজা দেওয়া হয়েছে অনেক ক্ষেত্রেই। এখানে তিনভাগে কাজ হচ্ছে। একটা হচ্ছে যে জেলা প্রশাসন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অধীনে। তারপর হচ্ছে যে পুলিশ। গতকাল আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আরেকটা হচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বিভিন্ন খবরের কাগজে আসছে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় লোক পাঠাবো। এটা (গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম) যেন স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসে এইজন্য আমরা সবকিছু করবো। মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে। আগেই বিইআরসি থেকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর তথ্য দেওয়া হচ্ছে এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, এটা আমরা দেখবো, বিইআরসির (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) কেউ জড়িত কিনা। তিনি বলেন, সিলিন্ডার গ্যাসের যে ব্যবসা, এটার ৯৮ শতাংশ হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরে। আমাদের মাত্র ২ শতাংশ, ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে কিছু প্রোপেন-বিউটেন হয়, সেগুলো দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার করা হয়। প্রথমে জ্বালানি সচিব এবং বিইআরসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, সেই মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জ্বালানি সচিব এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এখানে প্রথম জিনিসটা হচ্ছে, এলপিজি গ্যাস আমদানি করে বটলিং করা হয়, সেই আমদানি গত মাসের তুলনায় এ মাসে বেশি। সুতরাং, সেই দিক থেকে এই ধরনের কোনো ঘাটতি হওয়ার কথা না। জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, আজকে আমরা আমাদের টিমকে চট্টগ্রামে পাঠিয়েছি, আমরা ঢাকাতেও এটা করবো। আমরা আশা করছি এটা আস্তে আস্তে কমবে। তিনি বলেন, তবে আরেকটা জিনিস আছে এখানে, যেটা আপনাদের হয়ত জানা দরকার। সেটা হচ্ছে- কিছু জাহাজের ওপর একটা নিষেধাজ্ঞা আছে। সেজন্য কিছু জাহাজীকরণের সমস্যা আছে। সেগুলো আমরা দেখতেছি, জাহাজীকরণের সমস্যাটা যেন না হয়। কিন্তু, বর্তমানে কিংবা এই মাসে এটা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ভবিষ্যতের জন্য এই জাহাজীকরণের সমস্যাটা দেখার চেষ্টা করছি। বাসা-বাড়িতে গ্যাসের সংকট চলছে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন আছে। আরেকটা হচ্ছে যে আমরা আমদানি করি, আমরা এলএনজি আমদানি করি। এর কোনোটাই কম না। কিন্তু আপনাদের এটা মনে রাখতে হবে যে, শীতকালে আমাদের গ্যাসের পাইপলাইনে সমস্যা, বিদেশে পাইপলাইনকেও হিট করে। কিন্তু আমাদের সেই ব্যবস্থা নেই। এটা আমাদের গ্যাস সরবরাহে সমস্যা। কোনো সাপ্লাইয়ের অভাবের জন্য না। আমরা যে পরিমাণ এলএনজি আনার কথা সেই পরিমাণ এলএনজি আনছি, আরও বেশি আনছি।
শেয়ার করুন: