ইরানে মার্কিন হামলার হুমকি অগ্রহণযোগ্য : রাশিয়া
রাশিয়ার মিত্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে মস্কো। একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে রাশিয়া বলেছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা ফেলা হলে তা সম্ভাব্য বিপর্যয়কর ফলাফলের দিকে ধাবিত হতে পারে। বৃহস্পবিার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এর আগে, গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে না পৌঁছায় তাহলে ইরানে বোমা হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দেন। এই হুমকির পর ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও বর্তমান পরিস্থিতির বিপদ সম্পর্কে জানতে চাইলে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মস্কো। তেহরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির অধিকারে সম্মান জানায় রাশিয়া।
মস্কোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ‘‘পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে ইরানের বিরোধীদের সামরিক বাহিনীর ব্যবহার অবৈধ এবং অগ্রহণযোগ্য।’’
‘‘বাইরে থেকে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো স্থাপনায় বোমা হামলার হুমকি অনিবার্যভাবে এক অপরিবর্তনীয় বৈশ্বিক বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাবে। এসব হুমকি একেবারে গ্রহণযোগ্য নয়।’’
পশ্চিমা বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো ইউরেনিয়ামের উচ্চ মজুতের মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা গড়ে তোলার গোপনীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে ইরান কাজ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে। যদিও তেহরান বরাবরের মতো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা কেবল বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি শক্তি কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে।
তেহরান বলেছে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক জ্বালানির উদ্দেশ্যে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাশিয়া এবং ইরান ‘‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’’ স্বাক্ষর করে। যদিও সেই চুক্তিতে পারস্পরিক কোনও প্রতিরক্ষার শর্ত নেই। তবে চুক্তি অনুযায়ী, যদি এক পক্ষ আক্রান্ত হয়, তাহলে অন্য পক্ষ আক্রমণকারীকে সহায়তা করবে না।
ইরানকে দেওয়া মার্কিন হুমকির নিন্দা জানিয়েছেন রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ। লাইফ ম্যাগাজিনকে তিনি বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত উন্মুক্ত সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
‘‘এই হামলার পরিণতি, বিশেষ করে যদি পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা হয়, তাহলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে।’’