January 30, 2026
আন্তর্জাতিক

আসামের ‘মিঞাঁ মুসলমানদের’ উচিত বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দেওয়া : হিমন্ত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন, ‘মিঞাঁ মুসলমানদের’ উচিত আসামে নয়, বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দেওয়া। আসাম ছেড়ে যাওয়ার জন্য তাদের ‘উত্যাক্ত’ করতে নাগরিকদের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার তিনসুকিয়া জেলার ডিগবয়তে একটি জনসভার পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী মিঞাঁদের এখানে ভোট দেওয়ার কথা নয়, তাদের উচিত বাংলাদেশে ভোট দেওয়া। তারা যাতে আসামে ভোট দিতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেছেন, “যে কোনও পন্থায় এমনভাবে যেন মিঞাঁ মুসলমানদের উত্যক্ত করা হয়, যাতে তারা আসাম ছেড়ে চলে যান।”

আসামের মুখ্যমন্ত্রী এ-ও বলেছেন, তারা যে মিঞাঁ মুসলমানদের বিরুদ্ধে, তা নিয়ে তাদের কোনও লুকোছাপা নেই।

প্রসঙ্গত, ভারতে মিঞাঁ শব্দটি আসামের বাংলাভাষী মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলা একটি ‘কটু কথা’, যার অর্থ ধরে নেওয়া হয় যে তারা বাংলাদেশি। গত কয়েকদিন ধরেই হিমন্ত বিশ্বশর্মা মিঞাঁ মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন উক্তি করছেন।

আসামে কয়েক মাসের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচন হবে এবং এখন সেখানে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের কাজ চলছে। এই সংশোধন অবশ্য পশ্চিমবঙ্গ সহ আরও অনেক রাজ্যে যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন চলছে, তা থেকে পৃথক। আসামের এই তালিকা সংশোধন একরকম ভোটের আগে রুটিন প্রক্রিয়া।

বিশ্বশর্মা বলেছেন, ওই ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়ে বিজেপি কর্মীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা সন্দেহজনক বিদেশীদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে গুচ্ছ গুচ্ছ ‘সাত নম্বর ফর্ম’ জমা দেয়। ইতিমধ্যেই বিজেপি কর্মীরা পাঁচ লক্ষ ফর্ম জমা করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ভোটার তালিকায় কারও নাম নিয়ে যে কেউই ‘সাত নম্বর ফর্ম’ জমা দিয়ে আপত্তি তুলতে পারেন।

আপত্তি তোলার জন্য গুচ্ছ গুচ্ছ ‘সাত নম্বর ফর্ম’ জমা দেওয়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আসামের কংগ্রেস নেতৃত্ব।

এ নিয়ে গৌহাটি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছে বুধবার।

মিঞাঁদের ‘উত্যক্ত’ করতে চাইছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা?

আসামের মুখ্যমন্ত্রী আগেও মিঞাঁ মুসলমানদের নিয়ে নানা কথা বললেও সম্প্রতি তিনি বারবার এই প্রসঙ্গ তুলছেন।

মঙ্গলবার, “আমাদের কাছে ভোট চুরি মানে আমরা কিছু মিঞাঁ ভোট চুরি করতে চাইছে। আদর্শ ব্যবস্থা সেটাই হত যদি তাদের আসামে ভোট দেওয়ার অনুমতি না দিয়ে বাংলাদেশে দেওয়া হত।”

“আমরা নিশ্চিত করছি যাতে তারা আসামে ভোট না দিতে পারে,” মন্তব্য হিমন্ত বিশ্বশর্মার।

সাংবাদিকরা তার সামনে উল্লেখ করেছিলেন যে, হাজার হাজার বাংলাভাষী মুসলমান ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন চলাকালীন নোটিশ পাচ্ছেন।

জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা (বিশেষ সংশোধন) তো প্রাথমিক। যখন এসআইআর (নিবিড় সংশোধন) হবে আসামে, চার থেকে পাঁচ লাখ মিঞাঁ নাম আসাম থেকে কাটা যাবে। কংগ্রেস যত পারে আমাকে গালাগালি করুক। আমার কাজ হল যাতে মিঞাঁ মানুষদের ভোগান্তি হয়।”

এর আগেও তিনি বলেছিলেন, তার সরকার আইনের আওতার মধ্যে থেকেই মিঞাঁদের উত্যক্ত করবে।

সাধারণ মানুষকেও তিনি বলেছিলেন, যাতে তারাও মিঞাঁদের বিরক্ত করতে থাকেন। তার কথায়, ‘মিঞাঁদের উত্যক্ত করা দরকার। যদি রিকশার ভাড়া পাঁচ টাকা হয়, তাহলে চার টাকা দিন যাতে তাদের বিরক্ত করা হয়। এভাবেই তারা এখান থেকে চলে যাবে।”

ভোটার তালিকায় থাকা মিঞাঁ মুসলমানদের নাম নিয়ে আপত্তি তুলে তার দলের কর্মীরা যে পাঁচ লাখেরও বেশি ‘সাত নম্বর ফর্ম’ জমা দিয়েছেন, সেটাও একাধিকবার বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আসামের সবাই জানে যে বাংলাদেশি মিঞাঁ অনুপ্রবেশকারীরা রাজ্যে এসেছে। যদি ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনের সময়ে তারা কেউ নোটিশ না পায় তাহলে তার অর্থ কী দাঁড়ায়? তার অর্থ দাড়ায় এই যে আসামে কোনো বিদেশি নাগরিক নেই।”

“এজন্যই আমাদের কর্মীরা পাঁচ লাখেরও বেশি ফর্ম জমা দিয়ে আপত্তি তুলেছে। নাহলে তো সকলেই আইনি বৈধতা পেয়ে যাবে,” মন্তব্য হিমন্ত বিশ্বশর্মার।

তার মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ায় বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, ‘মিঞাঁ’ শব্দটি  তার আবিষ্কার নয়, বাংলাদেশি মুসলমানরা নিজেরাই মিঞাঁ পরিচয় দেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি এদিন বলেন, “আমি তো মুসলমান শব্দটা ব্যবহার করছি না, তাতে আমাদের ভূমিপুত্র মুসলমান বাসিন্দাদের আঘাত লাগতে পারে।”

ঘটনাচক্রে ঢাকায় সাকিনা বেগম নামে আসামের যে মুসলমান নারীকে খুঁজে পেয়েছিল বিবিসি বাংলা, তিনি কিন্তু বাংলাভাষী মুসলমান নন, আসামেরই আদি বাসিন্দা তার পরিবার।

তাকেও মি. বিশ্বশর্মার সরকার সীমান্ত পার করিয়ে দিয়েছিল।

শেয়ার করুন: