January 29, 2026
জাতীয়লেটেস্টশীর্ষ সংবাদ

অভ্যুত্থানের পর সিভিল সোসাইটিতে ছিল দলীয় অনুচরবৃত্তি: আলী রীয়াজ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় প্রত্যাশিত ভূমিকা পালনে সিভিল সোসাইটি ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সিভিল সোসাইটির সংগঠিত ও স্বাধীন ভূমিকা দৃশ্যমান হয়নি; বরং দলীয় অনুচরবৃত্তির প্রবণতাই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) আয়োজিত ‘পুরাতন বন্দোবস্তে ভাঙন, সংস্কার এবং গণতন্ত্রের পুনর্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন আলী রীয়াজ। আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে নতুন পর্বের সূচনা হয়েছে, সেটিকে কেবল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল হিসেবে দেখলে হবে না। এই সময়টি দেশের রাজনৈতিক কাঠামো, শাসনব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ পুনর্বিবেচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ ছিল। প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমলাতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়েছে। কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক কমান্ড কাঠামো ছিল দুর্বল। যারা রাজপথে থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তারাই যদি সরকার গঠন করতেন, তাহলে এই সংকট এতটা প্রকট হতো না। জাতীয় ঐকমত্য বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, এই ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা ও আগ্রহ—দুটোরই ঘাটতি রয়েছে। বড় কোনো রাজনৈতিক শক্তি কিংবা সুসংগঠিত বিকল্প নেতৃত্ব এই সময়ে বিকশিত হয়নি, যা গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিভিল সোসাইটির ভূমিকা নিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সিভিল সোসাইটি সংগঠিতভাবে যে চাপ সৃষ্টি করতে পারত, তা তারা পারেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রেই দলীয় আনুগত্য ও অনুচরবৃত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে, যা গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য উদ্বেগজনক। ২০২৪ সালে দেশে কোনো বিপ্লব হয়নি, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, ‘এই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা বাস্তবায়নে গণভোট ও কাঠামোগত সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা জরুরি। তা না হলে দেশ আবারও পেছনের দিকে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।’
শেয়ার করুন: