July 22, 2024
আঞ্চলিকলেটেস্টশীর্ষ সংবাদ

লোহাগড়ায় মধুমতী নদীর তীব্র ভাঙনে নিঃস্ব শতাধিক পরিবার

মোঃ আলমগীর হোসেন, লোহাগড়া
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে মধুমতী নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ী, শতশত বিঘা আবাদী জমি, গাছপালা, এমনকি বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইনের খুঁটি। ভাঙনের মুখে পড়ে বাড়িঘর অনত্র সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামের কয়েকশ’ পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, একাধিকবার মধুমতি নদীর ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন এখানকার মানুষ। গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড শিয়রবর গ্রামে ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ ফেললেও তা এবারের ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।
রামকান্তপুর গ্রামের বাসিন্দা সাদ্দাম, আলাউদ্দিন,বালাম, চুন্নুমিয়া,আফজাল মোল্লা, হুমায়ুন কবির, আরফিন মোল্লা, ওসমান মুন্সী জানান, ‘মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে তাদের বসতবাড়ি বার বার নদীগর্ভে চলে গেছে। এসব মানুষেরা
নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। যেভাবে নদী ভাঙ্গছে তাতে করে বসতভিটা কখন নদীর পেটে চলে যায়, তার ঠিক নেই। এবার বাড়ি ভাঙ্গলে মাথাগোঁজার ঠাঁই থাকবে না তাদের’।
রামকান্তপুর গ্রামের তোতা মিয়া জানান, ‘তাদের ৫ বিঘা জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। এ পর্যন্ত তিন বার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন তিনি। এবারও ভাঙ্গনের মুখে রয়েছেন ‘।
বৃদ্ধ আরফিন মোল্যা জানান, বসতভিটা ছাড়াও তাদের আবাদি জমি, সুপারী বাগান, পুকুরসহ ভাঙ্গনে ৫ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অন্যের জমিতে বসবাস করছেন তিনি। সেটিও ভাঙনের মুখে রয়েছে। এরপর স্ত্রী সন্তান নিয়ে কোথায় থাকবেন সে ঠিকানাও নেই তাদের-এ কথা
বলতেই কেঁদে ফেলেন এই বৃদ্ধ’।
বালাম মোল্লার স্ত্রী তহমিনা বেগম জানান, ইতোপূর্বে ২ বার তাদের বসত ভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
গতকাল শনিবার সরেজমিনে নদী ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ভাঙ্গনের ভয়াবহতা।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ লাবু মিয়া জানান, মধুমতী নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, আবাদি জমি, মাদ্রাসা, মসজিদ ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে নদী গর্ভে পুরো এলাকা বিলীন হয়ে যাবে। তিনি মধুমতী নদীর ভাঙন রোধে জাতীয় সংসদের হুইপ নড়াইল -২ আসনের সাংসদ মাশরাফী বিন মুর্তজাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষেয়ে নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘লোহাগড়া উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামের ভাঙ্গনরোধে আপাতত কোন বরাদ্ধ নেই, এ কারণে কোনো ধরণের কাজ করতে পারছি না’। তবে বরাদ্ধ পেলে আগামীতে ওই এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ করা হবে।

দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিন/ জে এফ জয়

শেয়ার করুন: