June 13, 2024
লাইফস্টাইললেটেস্ট

কৃতজ্ঞতার মহিমা

দিলরুবা ইয়াসমিন কলি

আমার বন্ধু বিজ্ঞানী নিউটনকে সাথে নিয়ে হারিয়ে গেলাম এক ঘাসফুল ভরা দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে। ঝলমলে আলোয় সবুজ ঘাসের মাঝে রঙিন ফুলগুলো ঊর্ধ্ব মুখে চেয়ে আছে। মাতাল করা দখিনা হাওয়ায় ফুলগুলো দুলে দুলে প্রজাপতি সাথে খেলা করছে। সব মিলিয়ে মন আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে পাখির মতো ডানা মেলে উঠতে চাইছে।

অনেকক্ষণ পরিবেশটাকে উপভোগ করার পর দুজনে একটা আপেল গাছের নিচে ঘাসের গালিচার উপরে বসে গল্প শুরু করলাম।

আমি বললাম, আমাদের মাথার উপর যদি এখন আপেল পড়তো তাহলে হয়তো কিছু নতুন আবিষ্কারের ধারণা মাথায় আসতো।

নিউটন হেসে বলল, মাথায় আপেল পড়ুক আর কাঁঠাল পড়ুক তাতে কিছু যায় আসে না যদি তার চিন্তাধারা গভীর উপলব্ধিতে না পৌঁছায়।

আমার এই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কার শুধু আপেল গাছ তলায় বসে হয়নি। এই আবিষ্কারের সূত্র পেয়েছিলাম বাইবেল থেকে। ধর্মীয় গ্রন্থগুলোতে জগতের সকল রহস্য বিদ্যমান। নির্দিষ্ট স্থিরতায় বসে সূত্র নিয়ে মনসংযোগ করলেই সমাধান বেরিয়ে আসে।

এভাবে জ্ঞান আর স্থিরতার কথা বলতে বলতে আমাদের মন মস্তিষ্ক শান্ত হওয়ায় অন্য জগতে হারিয়ে যাচ্ছিলাম।

হঠাৎ খেয়াল করলাম পশ্চিমের আকাশে সূর্যটা রাঙা বধু হয়ে বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরাও ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় আমাদের আরেক বন্ধু বিজ্ঞানী আইনস্টাইন হাজির।

আমি বললাম, বন্ধু কি খবর? এই অবেলায় একা একা কোথায় যাচ্ছিলে?

আইনস্টাইন বলল, নির্দিষ্ট কোথাও যাচ্ছি না। বের হয়েছি প্রকৃতির সাথে একাত্ম হতে, আর প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে।

আমি বললাম, বিষয়টাতো দারুন! এর উপকারিতা কি?

আইনস্টাইন বলল, প্রকৃতিকে বা ঈশ্বরীয় শক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশেই আমার অন্তরের দরজা খুলে যাওয়ার কারণ। আমি প্রতিদিন ১০০ বার ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা জানাই আর নতুন নতুন প্রকৃতির রহস্য খুঁজে পাই। আর এই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য সকাল সন্ধ্যার যে প্রকৃতি, সেটি উপযুক্ত থাকে।

এ কথা শুনে আমরা তিনজনে চোখ বন্ধ করে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলাম। গভীর উপলব্ধিতে শরীর শিহরিত হয়ে উঠলো।

এই আমাদের দুর্লভ মানব জীবন কেন নেতিবাচক চিন্তা আর কর্মে ভরিয়ে তুলবো? জীবনকে স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে উপভোগ করার দায়িত্ব আমাদের হাতে। সহজ ও নির্মল হয়ে যাও। আর সকল পরিস্থিতিতে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর। জীবনের বিস্ময়কর পরিবর্তন দেখতে পাবে অল্প কিছুদিনের মধ্যে।

শেয়ার করুন: