আংশিক গাছ উদ্ধার হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা!

তেলিগাতীতে পুলিশ বক্স নির্মাণের নামে সরকারি গাছ কর্তন

খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি
নগরীর আড়ংঘাটা থানাধিন তেলীগাতি বাইপাস সড়ের পাশ থেকে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে জনতা ব্যাংক খুলনার নুরনগর শাখার সিনিয়র অফিসার শেখ জাহিদ ইকবালের বিরুদ্ধে। গাছ কাটার সময়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা হাতে নাতে ধরলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বনবিভাগ বলছে এটা তাদের গাছ নয়, থানা পুলিশ বলছে কেহ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং যাদের গাছ সেই সড়ক ও জনপদ বিভাগ বলছে তারা এ বিষয়ে কিছুই অবগত নয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, তেলিগাতী বাইপাস সড়কের কুয়েট লিংক রোর্ডের পাশের সরকারি দুটি বড় গাছ এলাকার শেখ জাহিদ ইকবালের নেতৃত্বে শুক্রবার সকালে কাটা হয়। গাছ কাটার খবর পেয়ে দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে গাছ কাটা বন্ধ করে গাছের একটি অংশ ভ্যান যোগে দ্রুত সরিয়ে ফেলে।
এ সময় অভিযুক্ত জাহিদ ইকবাল সাংবাদিকদের জানান, থানার ওসি সাহেবকে জানিয়ে পুলিশ বক্স নির্মাণে জন্য গাছ গুলো কাটা হয়েছে। গাছ কাটার বিষয়টি ফুলতলা উপজেলা বন কর্মকর্তা জহির উদ্দিনকে অবহিত করলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে কাটা গাছের কিছু অংশ উদ্ধার করে জব্দ করেন। এ সময় তিনি বলেন, যে এলাকা থেকে গাছ কাটা হয়েছে সেটা সড়ক ও জনপদ বিভাগের। কাটা গাছের অংশবিশেষ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রেজাউল করিম বলেন, সরকারি গাছ কাটার অনুমতি আমি দিতে পারিনা। কেহ যদি পুলিশ বক্স নির্মাণ করার জন্য আমি গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছি বলে থাকে তা হলে সে নিজের দোষ আড়াল করতে মিথ্যা বলছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে বিভাগী বন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, আমি ছুটিতে বাইরে আছি তবে শুনেছি স্থানীয় এক ব্যক্তি থানার দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে অবহিত করে পুলিশ বক্স অথবা গোলচত্তর নির্মাণের জন্য গাছ গুলো কেটেছে। আমরা গাছ উদ্ধার করে জব্দ করেছি এখন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে রোডস এন্ড হাইওয়ে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের বৃক্ষ পালন বিটের সহকারী গোবিন্দ গাইন জানান তারা এ বিষয়টি অবহিত নয়। তিনি বলেন, সরকারি গাছ কাটার অধিকার কারও নাই। যদি কেউ কেটে থাকে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে মামলা হবে।
এদিকে স্থানীয় একটি সুত্রে জানাগেছে, সরকারি গাছের একটি অংশ তেলিগাতী মধ্যপাড়ায় একটি বাড়ীতে রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যান্ত প্রভাবশালী এবং সংশ্লিষ্ট থানার উর্ধতন কর্মকর্তার সাথে গভীর সক্ষতা থাকায় ঘটনার একদিন অতিবাহিত হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিন/ এম জে এফ

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *